
কিঙ্কর শিবব্রত রচিত 'শিবদুহিতার আঙিনায়' গ্রন্থটি নর্মদা নদী এবং তার তীরবর্তী বিভিন্ন তীর্থস্থানের মাহাত্ম্য ও লেখকের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার এক অপূর্ব সংকলন। বইটির মূল বিষয়বস্তু নিচে অনুচ্ছেদ আকারে দেওয়া হলো:1
এই গ্রন্থে নর্মদা নদীকে শিবের কন্যা বা 'শিবদুহিতা' এবং 'রেবা' নামে অভিহিত করা হয়েছে, যার জল পান এবং তীরে শিবের আরাধনা করলে জীবের সকল দুর্গতি ও সাত জন্মের পাপ বিনাশ হয়। লেখক নর্মদা পরিক্রমাকে কেবল ভ্রমণ নয়, বরং একটি কঠোর 'তপস্যা' হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যেখানে পরিক্রমাকারীদের নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হয়। বইটিতে নর্মদার উৎপত্তিস্থল অমরকন্টকের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও ধর্মীয় গুরুত্ব বিস্তারিতভাবে আলোচিত হয়েছে, যার মধ্যে নর্মদা উদ্গম মন্দির, পাতালেশ্বর শিবমন্দির, কপিলধারা ও দুগ্ধধারা প্রপাতের উল্লেখ রয়েছে। লেখক অমরকন্টকে থাকাকালীন এক বাঙালি মোহান্তের আতিথেয়তা এবং নর্মদা তটে বিচরণকারী রহস্যময় সাধু-মহাত্মাদের সঙ্গলাভের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন।2345
এছাড়া গ্রন্থটিতে প্রাচীন রাজধানী মহেশ্বর এবং সেখানে রানী অহল্যাবাঈয়ের স্মৃতি বিজড়িত বিভিন্ন ঘাট ও মন্দিরের কথা উল্লেখ আছে। দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের অন্যতম ওঁকারেশ্বর মন্দিরের মাহাত্ম্য এবং সেখানে নর্মদা ও কাবেরী নদীর মিলনস্থলের পবিত্রতা বইটিতে ফুটে উঠেছে। লেখক দারুকেশ্বর তীর্থের পৌরাণিক কাহিনী এবং নর্মদা তটের আরও অনেক ছোট-বড় তীর্থের বর্ণনা দিয়েছেন, যা এই নদীকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা আধ্যাত্মিক ভারতবর্ষের এক জীবন্ত চিত্র তুলে ধরে। পরিশেষে, লেখক নিজের নর্মদা পরিক্রমার সংকল্প এবং এই যাত্রার মাধ্যমে পরম শান্তি ও আনন্দ লাভের কথা ব্যক্ত করেছেন।